সারাদেশ

প্রকাশ্যে জমিদার বাড়ির ‘পুকুর খুঁড়ে’ নেওয়া হচ্ছে গুপ্তধন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

প্রকাশ্যে জমিদার বাড়ির ‘পুকুর খুঁড়ে’ নেওয়া হচ্ছে গুপ্তধন
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাইশরশি এলাকার প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়িতে গুপ্তধনের সন্ধানে একটি পুকুরের অংশ খনন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি চক্র প্রকাশ্যে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ‘বউঘাট’ অংশে মাটি খুঁড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট করছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের নারীদের স্নানঘাট হিসেবে পরিচিত বউঘাট এলাকায় ব্যাপকভাবে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা পাথরের মূর্তি, পুরোনো কালো পাথরের বাটি, ধূপদানি, পূজার পাত্র, দোয়াত-কালির পাত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিসের অংশবিশেষ।

গুপ্তধন.jpg

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি দিনের আলোতেই মাটি খুঁড়ে পাশের পুকুরে ধুয়ে বিভিন্ন ধাতব ও পুরোনো সামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, পাথরের তৈরি খেলাধুলার সরঞ্জাম, তামা ও রুপার পুরোনো মুদ্রার মতো জিনিস উদ্ধার হতে দেখা গেছে। তবে এসব ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তারা নিজেদের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকা থেকে এসেছে বলে দাবি করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাইশরশি জমিদার পরিবার একসময় ফরিদপুরসহ আশপাশের বহু অঞ্চলে বিস্তৃত জমিদারি পরিচালনা করত। দেশভাগের পর তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং পরে সরকারি তত্ত্বাবধানে আসে।

এই জমিদার বাড়ির ভেতরে অবস্থিত পুকুরের বউঘাটটি ছিল নারীদের স্নান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের স্থান। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়ের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রী বা রত্নের খোঁজেই এ খননকাজ চালানো হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৭শ শতকের দিকে লবণ ব্যবসার মাধ্যমে সাহা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ২২টি পরগনা ক্রয় করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিবার অঞ্চলটিতে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিল।

একসময় প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িতে ছিল বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং একাধিক দালান। বর্তমানে এর একটি অংশ টিকে থাকলেও বেশিরভাগ জায়গা দখল হয়ে গেছে। অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকাটি এখন কার্যত অরক্ষিত। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এমনকি ঐতিহাসিক দরজা, লোহার কারুকাজ ও অন্যান্য নিদর্শনও হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে স্থানীয়রা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।