সারাদেশ

গাইবান্ধার নদ-নদীসহ তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই  


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

গাইবান্ধার নদ-নদীসহ তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই  
ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার সবকটি প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য প্রকাশ করে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার নিচে, ঘাঘট নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৪১ সেন্টিমিটার নিচে এবং করতোয়া নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলতি বন্যা মৌসুমে এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও গত এক মাস ধরে নদীগুলোর পানি ওঠানামা করছে। এরই প্রভাবে জেলার ২৫টি স্থানে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং আরও দুই শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে, এছাড়া সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ রসুলপুর, চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, কাউয়াবাদা, রতনপুর, লালচামার, কেরানীর চর, কালির খামার ও চর চরিতাবাড়ী।

বিশেষ করে ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে গত শুক্রবার গভীর রাতে আগে ফেলা জিওব্যাগ তিনটি স্থানে ধসে পড়ে। এর মধ্যে একটি স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য দুটি স্থানে যথাক্রমে ৩০ ও ২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে যায়। ধসে পড়া অংশের দুটি বসতিপূর্ণ এলাকায় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনের খবর পেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু আশ্বাস দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ভাঙনকবলিত মানুষের উদ্বেগ ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুষির ভিটা এলাকায়ও জরুরি সংস্কারকাজ চলছে এবং ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত চার উপজেলার জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপজেলাগুলোতেও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।