সারাদেশ
বদলির আদেশের পরও কর্মস্থল ছাড়েননি মিরপুরের সেই আলোচিত ইউএনও
কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক কৃষককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজকে রংপুরে বদলি করা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে বদলির আদেশের ৯ দিন পার কর্মস্থল ছাড়েননি মিরপুরের সেই আলোচিত ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের তাঁদের নামের পাশে বর্ণিত বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ন্যস্তকৃত কর্মকর্তাদের পদায়নের পর তাঁদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 144-এর ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, ২৯ জুন মিরপুর উপজেলা পরিষদে ঢেউটিন সহায়তার আবেদন নিয়ে যাওয়ায় এক কৃষককে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০০ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ ওঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মহসিন উদ্দীন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী। তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ওই দিন তিনি তাঁর এলাকার ছয়জনের জন্য ঢেউটিন সহায়তার আবেদন নিয়ে ইউএনও আরাফাত আমান আজিজের কার্যালয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদনপত্র দেখে ইউএনও তাঁকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন এবং আটকের নির্দেশ দেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা উপজেলা পরিষদে আটকে রাখার পর বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
এর আগে, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ ছাড়া, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকাপ্রকাশ/আরআরপি