সারাদেশ

শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সালিশে জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সালিশে জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত
ছবিঃ সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (০৫ আগস্ট) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। 

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ছোট বোন। অভিযোগ অনুযায়ী, হেলাল উদ্দিন শিশুটিকে দোকানে ডেকে নিয়ে যান এবং দোকানের পেছনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের অনুরোধে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়।

সালিশে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্মতিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দরিদ্র ও অসহায় হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা ইউনিয়ন পরিষদের করার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা দাবি করেন, হেলাল উদ্দিন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তাকে দলের কোনো পর্যায়ের সদস্য বা কর্মী করা হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নজরে আসেনি। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।