সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
ছবি: ঢাকা প্রকাশ

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বারকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া সেক্টরস্থ বিজিবির কিছুক্ষণ ক্যান্টিনে স্থানীয় ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আরিফুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “চরম ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা জাতির বিবেক, সত্যের বাহক। তাই আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে হওয়া এক জঘন্য ষড়যন্ত্রের প্রকৃত সত্য তুলে ধরতেই আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।”

আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি ছাতিয়ান ইউনিয়নের নওদাকুর্শা গ্রামের বাসিন্দা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সম্প্রতি তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার বাড়িতে অস্ত্র ও বোমা লুকিয়ে রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, স্থানীয় আশিক আলী তার কর্মচারী মো. কালু এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মজিদ মণ্ডলের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল।

ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল চক্রান্তকারী কথিত সাংবাদিক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশিক আলীসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি। আদালতে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও দাবি করেন আরিফুল ইসলাম।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অনেকেই হয়তো বেশীনগরের কথিত সাংবাদিক ও ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আশিক আলী (৩২) সম্পর্কে অবগত। তার অভিযোগ, সাংবাদিকতার ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আশিক আলী এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। রামনগর বাজারে তার একটি ডেকোরেটরের দোকান রয়েছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আশিক আলীর সঙ্গে তার বৈরিতা তৈরি হয়। সেই শত্রুতার জের ধরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং তার ও এলাকার মানুষের জীবন-সম্পত্তি বিপন্ন করতে ভয়াবহ পরিকল্পনা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১১ আগস্ট গভীর রাতে আশিক আলী কৌশলে তার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের ভিটেমাটিতে একটি লাল রঙের ব্যাগে দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও তিনটি ককটেল গোপনে রেখে যায়।

আরিফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতা সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার। কিন্তু আশিক আলীর মতো অষ্টম শ্রেণি পাস ভুয়া ও নামধারী সাংবাদিকরা এই পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের ব্ল্যাকমেইল করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও যদি তাকে এভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে অপকর্ম চালানোর অভিযোগে আশিক আলী ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া আশিক আলীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ইউপি মেম্বার মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নতুন কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।