সারাদেশ

রাজশাহীর অর্ধেকের বেশি তরুণই বিষণ্নতায় ভুগছেন: গবেষণা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০২:৫১ পিএম

রাজশাহীর অর্ধেকের বেশি তরুণই বিষণ্নতায় ভুগছেন: গবেষণা
প্রতীকী ছবি

রাজশাহী শহরের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী মানসিকভাবে ভালো নেই। তাদের বড় একটি অংশ বিষণ্নতায় আক্রান্ত। সম্প্রতি ‘থাই জার্নাল অব পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, এর পেছনে অন্যতম কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের ছয়জন গবেষক মিলে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মোট ৪৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তারা রাজশাহী শহরের কাজলা, তালাইমারী, সাহেববাজার ও বিন্দুর মোড় এলাকার বাসিন্দা।

গবেষণায় দেখা যায়, শহরের গড়ে ৫৮ শতাংশ তরুণ-তরুণী বিষণ্নতায় আক্রান্ত। এর মধ্যে তরুণীদের মধ্যে এই হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ এবং তরুণদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিষণ্নতার শিকারদের বড় একটি অংশ ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সী। এই বয়সী তরুণরা মূলত পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন বলে জানা গেছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ‘পেশেন্ট হেলথ কোয়েশ্চেনিয়ার-৯’ স্কেলের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ চরম মাত্রার বিষণ্নতায় আক্রান্ত। আরও ২০ শতাংশের মধ্যে মাঝারি মাত্রার উপসর্গ রয়েছে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যারা দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, ঘুমে ব্যাঘাত, ক্লান্তি, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ব্যর্থতার অনুভব ও আত্মহত্যার চিন্তার মতো উপসর্গ বেশি দেখা গেছে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), পিন্টারেস্টের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বেশি।

গবেষণার প্রধান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিজ্ঞান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন মানুষকে সংযুক্ত করে, তেমনি তা নিঃসঙ্গতাও বাড়িয়ে দেয়। তরুণেরা যেসব কনটেন্টে আসক্ত, সেগুলোর প্রভাব সম্পর্কে তাদের কোনো সচেতনতা নেই। সাজানো জীবনের ছবি দেখে অনেকে নিজের জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ে।”

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সেলিব্রিটি, গেমিং, ফানি ভিডিও বা পোষা প্রাণীর পেজ অনুসরণকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার মাত্রা বেশি। অন্যদিকে, পরিবার, বন্ধু বা সংবাদভিত্তিক পেজ অনুসরণকারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে মানসিক চাপ কম।

গবেষকরা মনে করছেন, রাত জেগে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে সময় কাটানোর ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে শরীর ও মনের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। তারা সুপারিশ করেছেন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রাম চালু করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো জরুরি।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ যত বেশি ডিজিটাল হচ্ছে, তত বেশি ডিজিটাল আচরণ নিয়ে সচেতন হতে হবে। নইলে তরুণ সমাজের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”