সারাদেশ
হাতিয়ায় জালে ধরা পড়ল ২৮০ কেজির শাপলাপাতা মাছ, বিক্রি ৯০ হাজার টাকায়
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৭ মণ বা ২৮০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি শাপলাপাতা মাছ। বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত এই মাছটি বুধবার বিকেলে হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যানঘাটে আনা হলে সেটি দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। পরে মাছটি কেটে টুকরা করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভাসানচরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে ‘চরঘেরা’ জাল ফেলেন একদল জেলে। বিকেলে ওই জালে বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছটি আটকা পড়ে। পরদিন বুধবার বিকেলে মাছটি বিক্রির জন্য চেয়ারম্যানঘাটে নিয়ে আসা হয়।
ঘাটের জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়ত থেকে স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন। পরে ঘাটে বসেই মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
চেয়ারম্যানঘাটে উপস্থিত সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল বারী জানান, বুধবার বিকেলে ঘাটে গিয়ে তিনি মাছটি দেখতে পান। আড়তে ডাকের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়। পরে ক্রেতা মাছটি কেটে টুকরা করে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। শাপলাপাতা মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় হলেও জেলেরা বিষয়টি জানতেন বলে মনে হয়নি বলেও জানান তিনি।
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শাপলাপাতা মাছের ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে পাওয়া ৮ থেকে ১০ প্রজাতির মধ্যে দুটি মহাসংকটাপন্ন এবং তিনটি সংকটাপন্ন। পিতাম্বরী বা নাঙলা এবং ঘণ্টি শাপলাপাতা মাছকে মহাসংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পান্ন্যা, শিংচোয়াইন ও ঠোট্ট্যা ঘাপরি শাপলাপাতা মাছকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকটি প্রজাতির শাপলাপাতা মাছের বিক্রিও নিষিদ্ধ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তার ভাষ্য, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে বন্য প্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী এটি বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। একই বিষয়ে জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।