সারাবিশ্ব
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে এআইকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি উচ্ছেদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে ইসরায়েল। স্যাটেলাইট ও ড্রোন থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে ভূমির সামান্য পরিবর্তনও দ্রুত শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যম পালডিজিটালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসরায়েলের এই প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত বিশেষ প্রযুক্তি ‘ইমিসাইট’ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্যাটেলাইট ও ড্রোনের উচ্চমানের ছবি বিশ্লেষণ করে বিশাল এলাকার ভূমিতে নতুন কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন হলে তা দ্রুত শনাক্ত করছে প্রযুক্তিটি।
এরপর অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগ তুলে সেখানে বুলডোজার পাঠিয়ে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও কৃষি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছিল ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনিদের ওপর। সেখানে ব্যবহারের পর এখন পশ্চিম তীরেও এটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও ফিলিস্তিনি রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খালেদ সাফি এবং ফিলিস্তিনি ভূমি প্রতিরোধ কমিশনের তথ্য কর্মকর্তা আমির দাউদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তনগুলো প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যে তথ্য যাচাই ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় মাসের পর মাস সময় লাগত, এখন প্রযুক্তির সংকেত পাওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও পিস নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে অননুমোদিত নির্মাণের অভিযোগে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও পূর্ব জেরুজালেমে ১ হাজার ২৮০টির বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ও পানির সংযোগ ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের সামান্য নির্মাণ বা সংস্কারকাজও প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারির আওতায় এনে ধ্বংস করা হলেও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ আউটপোস্ট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, পশ্চিম তীরকে নিজেদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বাজারে অস্ত্র ও নজরদারি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।