সারাদেশ
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বগুড়া, কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন
বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বগুড়ার পুত্রবধূ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে বগুড়ার থানা, উপজেলা, শহর ও গ্রামজুড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। বগুড়ার বাগবাড়িতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়িতে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
সকাল ৯টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নবাববাড়ি জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
জেলার বিভিন্ন সড়ক, চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা ও অফিস-আদালতে মানুষের মুখে মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ‘আপসহীন নেত্রী’র প্রয়াণ। অনেককে আবেগ সামলাতে না পেরে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়।
রিকশাচালক আবু হেলাল বলেন, “নেত্রীর জন্য মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। বাড়ি গিয়ে তার জন্য দোয়া করব।”
গাবতলীর অটোচালক শফিকুল ইসলাম ও বগুড়ার ভ্রাম্যমাণ দোকানি কাইয়ুম আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “তিনি যতবার ভোটে দাঁড়াইছেন, ততবারই আমরা তাকে ভোট দিয়েছি। শেষ সময়ে চিকিৎসা আর বিদেশে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়াটা আমাদের খুব কষ্ট দিচ্ছে।”
গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, “দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবকতুল্য মানুষকে হারালাম। তার ত্যাগ ও নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার মতো আর একজন নেত্রী পাওয়া কঠিন। তার প্রয়াণে গাবতলীবাসী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”
বিএনপির সহসভাপতি জুলফিকার হায়দার গামা বলেন, “গাবতলীজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। অসংখ্য মসজিদ ও মাদ্রাসায় তার জন্য দোয়া করা হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”
গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, “তিনি শুধু রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, তিনি আমাদের কাছে মাতৃসুলভ একজন মানুষ ছিলেন।”
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র তার এক অবিচল অভিভাবককে হারিয়েছে।”
এছাড়া সারিয়াকান্দি-সোনাতলার কাজী রফিকুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম-কাহলুর সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, শেরপুর-ধুনটের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘির আব্দুল মুহিত তালুকদারসহ জেলার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রয়েছে।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী সাত দিনের শোক কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য জেলার সব ইউনিটে দোয়া ও খায়েরের বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।