সারাদেশ
গণপিটুনিতে বাবাকে হারানো জয় রবিদাস আবার স্কুলে
মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুতে স্কুল ছেড়ে বাবার পেশায় বসতে হয়েছিল রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার জয় রবিদাসকে। ১৪ বছরের এই কিশোর ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছিল। তবে মানুষের সহমর্মিতা আর সহযোগিতায় আবার স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে ফিরেছে শ্রেণিকক্ষে। তার স্বপ্ন—বড় হয়ে একজন আইনজীবী হওয়া।
জয় রবিদাস তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। বাবার মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি এগিয়ে আসে। এতে সংসারের বোঝা কিছুটা হালকা হয়, জয়ও ফেরে বিদ্যালয়ে।
গত ৯ আগস্ট চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন জয়ের বাবা রূপলাল রবিদাস ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস। বাবার আসনে বসে জুতা সেলাই শুরু করলেও মনে কষ্ট চেপে রাখতে পারেনি জয়। সে জানায়, “যেদিন বাবার আসনে বসে কাজ করছিলাম, বুক ফেটে কান্না এসেছিল। কিন্তু কাঁদতে পারিনি। বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলায় আমরা এতিম হয়ে গেছি।”
সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন জয়দের পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা দেয়। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও সাহায্যের হাত বাড়ায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা জানান, রূপলালের বড় মেয়ে নুপুরের জন্য চাকরি ও বাজারে দোকানঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
জয়ের মা ভারতী রানী বলেন, “আমার স্বামী ফুটপাতে জুতা সেলাই করলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন। ছেলেটা আবার স্কুলে ফিরেছে—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে স্বস্তির।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মুসা বলেন, জয় মেধাবী ছাত্র। বাবাকে হারানোর পর সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন আবার নিয়মিত ক্লাসে ফিরেছে, শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে সব রকম মানসিক সহায়তা দিচ্ছে।
গণপিটুনিতে স্বপ্নভঙ্গ হলেও মানুষের ভালোবাসায় জয় রবিদাস আবার নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পেয়েছে। এখন তার একমাত্র লক্ষ্য—শিক্ষা অর্জন করে বাবার স্বপ্ন পূরণে একজন সফল আইনজীবী হওয়া।