সারাদেশ

নির্বাহী আদেশ অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণায় ইউপি চেয়ারম্যান 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

নির্বাহী আদেশ অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণায় ইউপি চেয়ারম্যান 
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে সরকারের নির্বাহী আদেশ অমান্য করে রীতিমত নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ওরফে কারেন্ট আনোয়ার। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে,  ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে ২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুর রহমানের জন্য ভোট চাইছেন আনোয়ার। এসময়, তিনি ধানের শীষকে ভোট দিয়ে তার এলাকায় জয়ী করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। 

এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল করিম মাসুমের সাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে সরকার। ওই নির্বাহী আদেশে ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ তাদের পদমর্যাদা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ, তারা সরকারি পদে বহাল থাকলে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। 

এবিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও প্রভাবের মধ্যে থাকেন। সে কারণে, তারা কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার, সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ বা ভোট চাইতে পারবেন না। 

একজন ইউপি চেয়ারম্যান সরাসরি একজন দলীয় প্রার্থীর প্রচারণার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা সরাসরি সরকারের প্রতিনিত্ব করেন। তারা বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জনগণকে দিয়ে থাকেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আনোয়ার হোসেন সরাসরি একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন যা আমাদের জন্য উদ্বেগের। তার বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান তারা। 

নির্বাহী আদেশ অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন কিনা জানতে মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

এবিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণা বা ভোট চাইতে পারেন না। যদি চেয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।