সারাদেশ

গাইবান্ধায় ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

গাইবান্ধায় ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি। অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত, প্রশ্ন ও প্রতিবাদ উঠেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।

মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, আমরা বাঙালি হিসেবে সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মন্দিরের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অন্যদিকে, পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইমাম-উলামা পরিষদ। উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত ওই সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা নির্মাণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান।

এর আগে বুধবার (১০ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু)। বক্তারা গুজব ও উসকানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর ইউনিয়নে রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে পৃথক সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ইমাম উলামা পরিষদ ও সচেতন নাগরিক সমাজ আট দফা দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস, ব্যয়ের হিসাব, দেশি-বিদেশি সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

এছাড়া প্রকল্প উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্রকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এত বড় প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

জেলার বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিকদের পক্ষ থেকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।