সারাদেশ

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু: বিসিএসে ক্যাডার হয়েও চাকরিতে যোগ দেওয়া হলো না তানভীরের


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু: বিসিএসে ক্যাডার হয়েও চাকরিতে যোগ দেওয়া হলো না তানভীরের
ছবি: সংগৃহীত

৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর তানভীর আহমেদ। তবে কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই ট্রেনে কাটা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ২৯ বছর বয়সী এই তরুণের।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় টিলাহাটী থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তানভীর। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পরিবারের সদস্যরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

তানভীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দিনাজপুরের গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। চলতি বছরের জুনে তাকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রে বদলি করা হয়।

এরপর ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন চাকরিতে চূড়ান্তভাবে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তানভীর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করলেও প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের সহায়তায় আঙুলের ছাপ পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহটি তানভীরের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত তানভীর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ডিগ্রির চর গ্রামের মো. বজলুর রশিদের ছোট ছেলে। তার বাবা একটি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

তানভীরের বড় ভাই মীর সফিকুল ইসলাম বলেন, ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন তার ভাই। বিসিএস ক্যাডার হওয়া নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যুতে পরিবারের সব আশা যেন এক মুহূর্তেই নিভে গেছে।

তানভীর কীভাবে ট্রেনের নিচে পড়লেন, তা পরিবারের কাছেও স্পষ্ট নয় বলে জানান তার বড় ভাই।

সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার শফিকুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।