সারাদেশ
টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায়, ৭ কিশোর পেল সাইকেল পুরস্কার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ব্যতিক্রমী এক ধর্মীয় উদ্যোগে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় সাত কিশোরকে বাইসাইকেল ও আরও ৪৮ জনকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে “নামাজের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিশু” এই স্লোগানকে সামনে রেখে হযরত শাহ সর্দার মুহাম্মদ (রহ.) মাহফিল বাস্তবায়ন পরিচালনা কমিটি এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করে।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের আসক্তি কমিয়ে মসজিদমুখী ও নামাজে আগ্রহী করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ৫৫ জন কিশোরের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৭ জনকে বাইসাইকেল এবং বাকিদের বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমতৈল হযরত শাহ সর্দার (রহ.) মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. সাহেদুর রহমান কিরন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আহসান উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া দারুসসুন্নাহ মডেল দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল খন্দকার অজিউর রহমান আসাদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি এম. মুক্তাদির হোসেন, বর্তমান সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম, আমতৈল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. রওফুর রাজা, সাংবাদিক মহি উদ্দিন রিপন, সৈয়দ মিছবাহ ও আশিকুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম জানান, প্রায় ৬০ জন কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ৪০ দিনের মধ্যে ৫ জন নিয়মিত নামাজ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় বাদ পড়েন। বাকিরা প্রতিদিন মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে প্রথম ৭ জনকে বাইসাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
বাইসাইকেল পাওয়া কিশোর মাহদি ইসলাম শাফি, নাজমুস সিয়াম ও জাবির খান বলেন, “টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ায় এখন নামাজ আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। শুধু পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়, মুসলমান হিসেবে আজীবন নামাজ আদায় করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হলে তাদের জীবন হবে আলোকিত ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ।
আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকল কৃতিশিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ ছাড়া মাত্র ১৮ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করায় ৯ বছরের শিশু রেদওয়ান আহমেদ মারিয়ানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।