খেলা

বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া’ অপবাদমুক্ত করে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ বানাতে চান তামিম


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া’ অপবাদমুক্ত করে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ বানাতে চান তামিম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ১৭তম সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। রবিবার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোর্ড কার্যালয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই পদে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি দুই মাস অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তামিম দেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং চলমান বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার জবাব দেন।

এর আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের সম্পৃক্ততার কারণে বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে সমালোচনা করা হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত আলোচনায় আসে।

এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, বোর্ডকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত হলেও তার লক্ষ্য হলো এই অপবাদ দূর করে বিসিবিকে প্রকৃত অর্থেই ‘ক্রিকেটের দোয়া’য় পরিণত করা।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। গত কিছু সময়ে ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্টদের সম্মানের জায়গায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ঠিক করাই তার অগ্রাধিকার।

দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সুনাম ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তামিম বলেন, বর্তমান ও সাবেক সব ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তামিম ইকবাল তার জীবনের এই পরিবর্তনকে বড় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই এই জায়গায় এসে পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল না থাকায় ২৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্যে তামিম বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, সবার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া।

বোর্ডে একমাত্র সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা। একাধিক সহ-সভাপতি না রাখার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তামিম জানান, অতীতে একাধিক সহ-সভাপতি থাকলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হতো, তাই একক পদ রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে বোর্ডের গঠনতন্ত্রেও পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের কেউ যেন কোনো বিতর্কে না জড়ান, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তামিম বলেন, অ্যাডহক কমিটির সময় শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, বিসিবি টেলিভিশন চালুর চেয়ে বর্তমানে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম ও হাই পারফরম্যান্স সেন্টার নির্মাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগের নকশা পছন্দ না হওয়ায় নতুন নকশায় দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিজস্ব অর্থায়ন ও সরকারি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।