খেলা

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর লালখানবাজার উড়ালসড়কের মুখে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন নাঈম। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় রয়েছেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই ক্রিকেটার।

নাঈম হাসানের ভাষ্য, ঢাকা থেকে খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। পথে লালখানবাজার এলাকায় পুলিশ তার ব্যবহৃত অটোরিকশা থামিয়ে চালকের কাগজপত্র যাচাই করে। তিনি নিজেই ব্যাগ তল্লাশি করতে বললেও হঠাৎ এক ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরে গাড়িতে উঠতে বলেন। এতে প্রতিবাদ করলে কয়েকজন তাকে পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।

নাঈমের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং একজন পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তি ছিলেন, যিনি নিজেকে গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র বা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। আশপাশের লোকজন তার ক্রিকেটার পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি। পরে তাকে খুলশি থানায় নেওয়া হয়।

থানায় পৌঁছে মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে নাঈম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর তামিম ইকবাল খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ সদস্য হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, চোরাচালানসংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। তবে পুরো ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং মারধরের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।