খেলা
ফাইনালের আড়ালে সান্ত্বনার লড়াই, তৃতীয় স্থানের ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব উন্মুখ, ঠিক তখনই অনেকটা নীরবে মাঠে গড়াচ্ছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই। এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনালে হারের হতাশা নিয়েই এই ম্যাচে নামছে দুই দল। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনালের পর স্পষ্টভাবেই বলেছেন, এই ম্যাচ খেলতে কোনো দলই আগ্রহী নয়। তার ভাষায়, ‘সবাই ফাইনাল খেলতে চায়, কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের মাঠে নামতে হবে।’
রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচ। অন্যদিকে নিউইয়র্ক নিউ জার্সির মাঠে একই দিনে মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ও স্পেন জাতীয় ফুটবল দল।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ছিটকে যায় ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশ্যম-এর দল পুরো ম্যাচেই কৌশলগতভাবে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হার মানে, যা তাদের হতাশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই ম্যাচকে অনেকেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। পেশাদারিত্ব বজায় রাখতেই দুই দল মাঠে নামবে। পাশাপাশি এটি ফ্রান্স কোচ দেশ্যমের জন্য বিদায়ী ম্যাচও হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছে।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসি দুজনই সমান আটটি করে গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে। ফলে এমবাপের সামনে গোলসংখ্যা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম ছয়টি করে গোল করে এখনও লড়াইয়ে আছেন। বিশেষ করে কেইনের জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ, যা তাকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে।
ক্লান্তি ও সূচির চাপের কারণে ইংল্যান্ড দলে পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। কম খেলা ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে পারে।
যদিও এটি সান্ত্বনার ম্যাচ, তবুও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় অঙ্কের অর্থ ও র্যাংকিংয়ের হিসাব। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার, আর চতুর্থ দল পাবে ২৮ মিলিয়ন। পাশাপাশি ফিফা র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ফাইনালের আড়ালে হলেও, এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সম্মান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।