পর্যটন

ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল: প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট, বাড়ছে ব্যবসার আশা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল: প্রস্তুত হোটেল-রিসোর্ট, বাড়ছে ব্যবসার আশা
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দেড় মাসের পর্যটক খরা কাটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। রমজানজুড়ে হোটেল-মোটেলগুলোতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও পর্যটকের তেমন সাড়া মেলেনি। তবে সামনে টানা প্রায় সাত দিনের ছুটি থাকায় এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে করছেন সবাই।

ঈদের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সমুদ্রসৈকতজুড়ে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। বিচ বাইক মালিক, ঘোড়াওয়ালা, ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে শামুক-ঝিনুক ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরা নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে শত শত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা।

স্থানীয় ফটোগ্রাফার করিম আলী বলেন, রমজানে পর্যটক কম থাকায় আয়ও কম ছিল। তবে ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, ফলে কাজের সুযোগও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। একইভাবে কিটকট ব্যবসায়ী আবদুর রহমান জানান, রমজানে ব্যবসা ভালো না হলেও ঈদে পর্যটক বাড়লে বিক্রি বাড়বে।

আচারের দোকানদার জিয়াউল হক জানান, ঈদ উপলক্ষে বার্মিজ আচার, চকলেটসহ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মতে, কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের মধ্যে এসব পণ্যের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যা পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন তিনি।

লাবণী শুঁটকি বিতানের স্বত্বাধিকারী শামশেদ আলম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি দিয়ে দোকান সাজানো হয়েছে। পর্যটক বাড়লে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে থাকা ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

লেইজার হোটেলিয়ার্স অব বাংলাদেশ, কক্সবাজার জোনের সভাপতি আবু তালেব শাহ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ, সাদা পোশাকের নজরদারি দল এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জহিরুল ইসলাম জানান, সমুদ্র এখন কিছুটা উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ডের উপস্থিতিতে সমুদ্রে নামাই নিরাপদ।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি এবং গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে।

সব মিলিয়ে, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, এই মৌসুমে জমে উঠবে পর্যটন খাত, ঘুরে দাঁড়াবে রমজানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা।