শিল্প-সংস্কৃতি
বগুড়ার গর্ব, দেশের বরেণ্য তবলা শিল্পী এনামুল হক ওমর
দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম তবলা শিল্পী মো. এনামুল হক ওমর। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যার ছন্দ ও তাল মুগ্ধ করেছে অসংখ্য শ্রোতাকে, সেই শিল্পীর শিকড় বগুড়ার করতোয়া নদীর তীরবর্তী কাটনার পাড়ায়। বগুড়ার সন্তান হিসেবে তার অর্জন আজ গোটা দেশের গর্ব।
এনামুল হক ওমর মরহুম সিরাজুল হক মরিসের ছোট ভাই মরহুম নুরুল হকের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর জীবনে সংগীত ছিল নেশা ও সাধনা- দু’টিই। নিরাপদ ব্যাংক চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সংগীতকে জীবন হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ। সময় প্রমাণ করেছে, সেটিই ছিল তার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।
তবলার ছন্দে তিনি কাজ করেছেন দেশের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পীদের সঙ্গে। পঞ্চভাস্কর, আনুশেহ আনাদিল, অর্ণব, বুনোসহ অনেক খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীর সহযোগী হিসেবে তার পরিবেশনা সংগীতাঙ্গনে আলাদা মর্যাদা পেয়েছে। তবলার পাশাপাশি মৃদঙ্গমেও সমান দক্ষতা তাকে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকজন বহুমাত্রিক তালবাদকের কাতারে স্থান দিয়েছে।

খেলাঘর ও শিশু একাডেমির সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে তার সংগীতযাত্রার সূচনা। ধ্রুপদি ও আধা-ধ্রুপদি সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে নিয়ে যায় উপমহাদেশের কিংবদন্তি গুরুদের সান্নিধ্যে। খাজা গোলাম মহিউদ্দিন, পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ, সমর সাহা ও এন. ভি. বালকৃষ্ণার মতো গুণী ওস্তাদদের কাছ থেকে তালিম নিয়ে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে পৌঁছে দেন এক অনন্য উচ্চতায়।
বর্তমানে এনামুল হক ওমর ছায়ানট বিদ্যায়তনের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে সংগীত শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের প্রধান তবলা সহশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার সময়ও তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সেই রক্তাক্ত দিন তার জীবনের পাশাপাশি দেশের সংগীত ইতিহাসেও এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে।
মাটি ও মানুষের শিকড় থেকে উঠে আসা এই গুণী শিল্পী আজও নিঃশব্দ সাধনায় সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলাদেশের সংগীতভুবন। এনামুল হক ওমর শুধু বগুড়ার নয়, পুরো দেশের গর্ব।