ক্যাম্পাস
ডাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপিসহ অনিয়মের ১১ অভিযোগ ছাত্রদলের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ‘গভীর কারচুপি’ ও ‘নির্বাচনী অনিয়মের’ ১১টি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।
নির্বাচনের দিন থেকেই অনিয়মের অভিযোগ জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সপ্তাহ পর সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন ভিপি পদে পরাজিত ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। তাদের সঙ্গে প্যানেলের আরও কয়েকজন প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদল দাবি করেছে, তারা নির্বাচনকালীন অসঙ্গতি ও অনিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ছাত্রদলের ১১টি অভিযোগ:
১. আগেই ভোট পড়ে গেছে: ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই ব্যালটে ভোট দিয়ে ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট প্রদান করা ব্যালট আগেই সরবরাহ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে আবেদন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি।
২. ব্যালটে ক্রমিক নম্বর ছিল না: ব্যালট পেপারে কোনো সিরিয়াল নম্বর ছিল না, যার ফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া ছাপানো, বিতরণকৃত, ব্যবহৃত ও ফেরত ব্যালটের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
৩. ব্যালট ছাপা হয় অরক্ষিত প্রেসে: নির্বাচনী ব্যালট কোন প্রেসে ছাপানো হয়েছে তা গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে নীলক্ষেতের এক অরক্ষিত প্রেস থেকে বিপুল সংখ্যক ব্যালট উদ্ধার হয় বলে দাবি ছাত্রদলের।
৪. ভোট গণনার সফটওয়্যার নিয়ে অনিশ্চয়তা: ভোট গণনায় ব্যবহৃত মেশিন ও সফটওয়্যার যাচাই গোপনে করা হয়, কোনো প্রার্থী বা দলের সামনে তা উপস্থাপন করা হয়নি।
৫. এজেন্ট বাদ দেওয়া: প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে পোলিং এজেন্ট নেয়ার কথা থাকলেও ভোটের আগের রাতেই তালিকা প্রকাশ করে অনেক প্রার্থীর প্রস্তাবিত এজেন্টকে বাদ দেয়া হয়। এজেন্ট বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও গোপন রাখা হয়।
৬. এজেন্টদের আইডি কার্ড সময়মতো দেওয়া হয়নি: আইডি কার্ড বিলম্বে সরবরাহ করায় অনেক এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হয়।
৭. কেন্দ্রের সংখ্যা বদলে ফেলা হয়: প্রথমে বলা হয়েছিল ৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে, কিন্তু ভোটের দিন দেখা যায় ১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, ফলে অধিকাংশ প্রার্থী পর্যাপ্ত এজেন্ট দিতে ব্যর্থ হন।
৮. পোলিং অফিসারদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন: চিফ রিটার্নিং অফিসারের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়। অনেক পোলিং অফিসার আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত না থেকে সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন।
৯. বহিরাগতদের প্রবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা: বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের সহযোগিতায় বহিরাগতদের প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের হাতে কয়েকজন বহিরাগত ধরা পড়েন, যাদের প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।
১০. ভোট গণনায় এজেন্টদের বাদ রাখা হয়: ভোট গণনার সময় অধিকাংশ পোলিং এজেন্টকে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখা হয়। অনেকেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর না করেই কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
১১. অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও কলম সমস্যা: অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহৃত হয়। দুপুরের পর বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটের জন্য ব্যবহৃত মার্কার কলম শেষ হয়ে গেলে ভোটারদের বলপেন দিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। বলপেনে দেওয়া ভোট ওএমআর মেশিনে গননা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যবহৃত কালি অস্থায়ী হওয়ায় একাধিকবার ভোটদানের সুযোগ থেকেছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।