ক্যাম্পাস

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক পেলেন গবেষণা প্রণোদনা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৫ এএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক পেলেন গবেষণা প্রণোদনা
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের আয়োজনে 'গবেষণা প্রণোদনা অনুষ্ঠান-২০২৫' এর আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিজ্ঞান অনুষদের ৫ জন, কলা ও মানবিক অনুষদের একজন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একজন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তিনজন এবং প্রকৌশল অনুষদের দুজনসহ মোট ১২ জন শিক্ষককে সার্টিফিকেট ও পাঁচ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা প্রণোদনা  হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। 

গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। 

প্রণোদনা প্রাপ্ত শিক্ষকগণ হলেন– পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জে. এম. আবিদ সালমান চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রাসেল মনি, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল আহাদ ও  সহযোগী অধ্যাপক ড. মিথুন কুমার দাস, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান নিমনী, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল হাসান, এআইএস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং আইসিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মেহেদী হাসান ও সহকারী অধ্যাপক আলিমুল রাজী।

এছাড়া, 'বেস্ট রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'যারা শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাকে আপন করে নিয়েছে সেরকম একঝাঁক মেধাবী গবেষকদের এমন একটা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মাননা প্রদানের জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই। যারা আজকে এখানে প্রণোদনা পাবেন তারা মেধাবীদের মাঝে মেধাবী শিক্ষক। একজন আদর্শ শিক্ষকের ক্লাস পারফরমেন্স যেমন থাকবে তেমনি গবেষণার ক্ষেত্রেও তাদের অবদান থাকবে। এভাবেই ক্লাস পারফরমেন্স, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা সব মিলিয়ে হয়ে উঠে আদর্শ শিক্ষক।'

তিনি আরও বলেন, ' আপনারা প্রত্যেকেই ভালো গবেষক। কিন্তু, আপনারা গবেষণা করেন একা। একা গবেষণা না করে যদি গ্রুপ করে গবেষণা করেন তাহলে সেটা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। এভাবে করে আপনার সহকর্মী আপনার কাছে গবেষণা শিখবে, আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণা শিখবে। সর্বোপরি আমরা সকলের প্রচেষ্টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাব।'

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী বলেন, 'আজকে যাঁরা এখানে উপস্থিত আছেন আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণায় উদ্ভুদ্ধ করেন। সিলেবাসে আপনাদের গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে সেগুলো পড়ান। এতে করে শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রতি আগ্রহী হবে। শিক্ষার্থীরা যত বেশি গবেষণা করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ততবেশি উপকার হবে৷ কারণ শিক্ষকের অনেক কাজ থাকে, সে কাজ করে গবেষণা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কষ্ট হয়ে উঠে। সে হিসেবে শিক্ষার্থীরা এখনো তরুণ তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের চেয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারে। আপনারা যারা শিক্ষক আছেন তাদের উচিত শিক্ষার্থীদের ভাবনার সুযোগ করে দেওয়া।'

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, 'আজকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দের দিন। বছরে একবার আমরা এই আয়োজন করতে পারি। আমি বিশ্বাস করি আজকে যারা সম্মাননা পেয়েছেন তাদের কাজ দেশ ও জাতি গঠনে অবদান রাখবে। যারা গবেষণা করে এবং যারা গবেষণা করতে আগ্রহী তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার প্রত্যাশা আপনাদের হাত ধরেই আগামী দিনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান তৈরি করবে।'