ক্যাম্পাস

প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম

প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ
প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত’ ও ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নৃত্যকলা বিভাগ।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়- একটি শিশুর মানসিক, শারীরিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এই দুটি বিষয় বাদ দেওয়া জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তারা।

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা উপন্যাস বলেন, “সংগীত মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই সংগীত শেখানো হয়। তাহলে আমাদের দেশে কেন সংগীত বাদ দেওয়া হলো? এটা শুধু সংগীত বিভাগের নয়, গোটা জাতির জন্য লজ্জার।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীন বলেন, “যারা এখন রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তাদের অনেকেই শিক্ষক। তারপরও কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত হলো? রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে ধর্মের পাশাপাশি সংগীত ও সংস্কৃতিও সমান জরুরি।”

ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা অভিযোগ করেন, “নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর চাপে সংগীত চর্চা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সংগীত বিভাগের শিক্ষক আজিজুর রহমান তুহিন বলেন, “সভ্যতা টিকে আছে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপর ভর করে। সংগীত ও শরীরচর্চা বাদ দিলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।”

তিনি সরকারের কাছে দ্রুত সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের আহ্বান জানান। সমাবেশে সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত’ ও ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টি করে নতুন নিয়োগ বিধিমালা জারি করা হয়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের সমালোচনার পর গত রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়, সীমিতসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিলে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে না এবং এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তবে অর্থ ও জনবল কাঠামোর প্রাপ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ পদ সৃষ্টির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।