ক্যাম্পাস

ছাত্রদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারসহ ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম

ছাত্রদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারসহ ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
অভিযুক্ত শিক্ষক ড. এরশাদ হালিম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের ছাত্রদের যৌন হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।

এর আগে মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান মিলন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ-

মামলার এজাহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর একটি ল্যাব পরীক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে তিনি অধ্যাপক এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষক তাকে মিরপুরের নিজ বাসায় আসতে বলেন। অভিযোগে বলা হয়, বাসায় গিয়ে ছাত্রটি অস্বাভাবিক ও অশোভন আচরণের মুখোমুখি হন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষকের অনৈতিক আচরণ সহ্য করতে বাধ্য হন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিক্ষক ফোন করে আরও কয়েকবার বাসায় যেতে চাপ দেন এবং না গেলে পরীক্ষার বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিক্ষার্থী গ্রামে চলে যান। পরে ঢাকায় ফিরে আসার পরও একই চাপ ও হুমকি অব্যাহত থাকে।

১৪ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থী আবারও তার বাসায় যান। সেখানে তাকে গালিগালাজ, মারধর ও জোরপূর্বক আরও অশালীন আচরণের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞান হওয়ার পর কী ঘটেছে তা তিনি জানেন না বলে এজাহারে উল্লেখ করেন ছাত্রটি। সকালে জ্ঞান ফিরে শারীরিক ব্যথায় চলাফেরা করতে পারছিলেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, এ শিক্ষক নাকি এভাবে আরও কয়েকজন ছাত্রকে প্রলোভন, ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হয়রানি করেছেন। শিক্ষার্থী কৌশলে কিছু অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন, যা মামলার প্রমাণ হিসেবে জমা দেন।

১৩ নভেম্বর রাতে মিরপুর মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং মামলার তদন্ত চলছে।