ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি ডিনদের অফিসে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২২ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি ডিনদের অফিসে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দায়িত্বে বহাল থাকার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয়জন আওয়ামীপন্থি ডিনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অপসারণের দাবিতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ডিনস কমপ্লেক্সে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিনদের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন। এই কর্মসূচিতে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, গত তিন মাস ধরে সংগৃহীত শিক্ষার্থীদের ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করে শিগগিরই একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকায় জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ক্যাম্পাসে উপস্থিত নেই এবং কারও ছুটির বৈধ অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটি গ্রহণ ও ক্লাস ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং হত্যা মামলার আসামি হয়েও যারা শিক্ষক হিসেবে বহাল আছেন, তা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। আমাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারেন। তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিনদের দায়িত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত উপ-উপাচার্যের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ডিনদের মেয়াদ গত ১৭ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী উপ-উপাচার্য চাইলে তাদের পুনরায় দায়িত্ব দিতে পারেন, নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন অথবা নিজেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।

উল্লেখ্য, এর আগের রাতে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার তার ফেসবুক পোস্টে আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগ ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ নামে একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেন।