ক্যাম্পাস

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম ও বিয়ে, এবার একসঙ্গে বিসিএস ক্যাডার বাকৃবির বাদল-স্বর্ণা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম ও বিয়ে, এবার একসঙ্গে বিসিএস ক্যাডার বাকৃবির বাদল-স্বর্ণা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী থেকে বন্ধুত্ব, সেখান থেকে প্রেম এবং পরিণয়ে বাঁধা এবার একইসঙ্গে বিসিএস জয় করে আলোচনায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দম্পতি সাহাজ উদ্দিন বাদল ও জেরিন আক্তার স্বর্ণা। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তারা দু’জনই কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বাদল ও স্বর্ণা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। একই অনুষদ, একই বর্ষ এবং জীবনসঙ্গী এবার একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তাদের এই যুগল সাফল্য ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সহপাঠী, শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। শুরুটা সহজ ছিল না। একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝেও তারা নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখে নিয়মিত প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং একে অপরকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

পথচলার শুরু নিয়ে সাহাজ উদ্দিন বাদল জানান, ২০১৭ সালে তাদের বন্ধুত্বের সূচনা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে একসময় তারা বুঝতে পারেন, একে অপরের পরিপূরক। পরে দুই পরিবারের সমর্থনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিসিএস প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাদল বলেন, ৪৪তম বিসিএসে আবেদন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ৪৫তম বিসিএস থেকে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেন তারা। প্রথমদিকে ব্যর্থতা এলেও সেটিই তাদের নতুন করে চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে। ৪৬তম বিসিএসে বাদল প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও স্বর্ণা পারেননি। তবে তারা হাল না ছেড়ে আরও কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান।

বিসিএসের পাশাপাশি অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন তারা। এরই মধ্যে বাদল সোনালী ব্যাংকে অফিসার পদে এবং স্বর্ণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

জেরিন আক্তার স্বর্ণা বলেন, এই সাফল্যের পেছনে পরিবার ও স্বামীর অবদান অপরিসীম। প্রতিকূল সময়ে স্বামীর অনুপ্রেরণা ও সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে তারা বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে কাটিয়েছেন। একসঙ্গে পড়াশোনা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই তাদের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা জানান, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক অনুপ্রেরণাই মূল চাবিকাঠি। তারা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।