ক্যাম্পাস
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধের জেরে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির একটি র্যালি বের করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে আপত্তি জানায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষকদের সঙ্গেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তর্কবিতর্ক হয়।
ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল করেছে। বহিরাগতদের বাদ দিতে বললে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, এতে তাদের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। প্রশাসনিক ভবনের নিচতলা থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং প্রক্টর চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শিবিরবিরোধী মিছিলও দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বেলাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।