রাজধানী

একসাথে স্কুল, একসাথে বিদায়, তিন খুদে বন্ধু এখন পাশাপাশি কবরে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ১১:২১ এএম

একসাথে স্কুল, একসাথে বিদায়, তিন খুদে বন্ধু এখন পাশাপাশি কবরে
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী বাপ্পির বাবা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে স্কুলের পথে রওনা হয়েছিল উত্তরা দিয়াবাড়ির তিন খুদে বন্ধু—আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে কোচিংয়েও অংশ নিচ্ছিল।

তাদেরও সেদিন ঘরে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু সেই ফেরা আর হয়নি। ফিরে এসেছে নিথর দেহ হয়ে—একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়ে।

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তাদের প্রাণ ঝরে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো দেশ। হাসিখুশি মুখগুলো এখন নিঃশব্দ হয়ে রয়েছে কফিনে। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর প্রতিবেশীদের শোকাহত উপস্থিতিতে ভারি হয়ে উঠেছে দিয়াবাড়ির আকাশ-বাতাস।

আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের শুধু বন্ধু ছিল না, তারা ছিল একে অপরের আত্মীয়ও। একই বংশের সন্তান, একই এলাকার বাসিন্দা। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদের পাশেই বেড়ে উঠছিল তিনটি প্রাণ। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, যে উঠোনে তারা খেলাধুলা করত, সেই আঙিনার পাশেই এখন তাদের কবর—পাশাপাশি শায়িত তিনটি নিষ্পাপ শিশু।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো এলাকাজুড়ে এক নিস্তব্ধ শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না থামছে না, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের চোখে জল। কেউ যেন মেনে নিতে পারছে না এই অকালে প্রাণ ঝরে যাওয়া।

এই শোক শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়—এ যেন গোটা জাতির হৃদয়ে বয়ে চলা ক্ষত। অল্প বয়সেই থেমে গেল তিনটি সম্ভাবনার গল্প। মাইলস্টোনের ওই দুর্ঘটনা দেশের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছে।

নিরাপত্তাহীনতার নির্মম ছোবলে একসাথে হারিয়ে গেল ভবিষ্যতের তিনটি তারা, আর রেখে গেল একটি কষ্টের শিক্ষা—নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়ন বা সামরিক সক্ষমতা নয়, মূল্য সবচেয়ে বেশি মানুষের জীবন।