রাজধানী
রাজধানীতে মন্দিরের পুরোহিতকে রাতভর নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরীকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি রাতভর জিম্মি রেখে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত সুভাষ দেউরী মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ওয়ারীর ১৫ নম্বর নারিন্দা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সুভাষের রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হলে নারিন্দা রোডে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর দুর্বৃত্তরা সুভাষকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে তাকে জিম্মি করে রাতভর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে সুভাষের রুমমেট বিকাশে ৬ হাজার টাকা এবং পরিবারের সদস্যরা আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যাংকের চেকবই ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
দুর্জয়ের দাবি, দুর্বৃত্তরা সারারাত সুভাষের সামনেই মাদক সেবন করে এবং তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।
ভোরের দিকে হামলাকারীরা সুভাষের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে তাকে তার বাসার সামনে অচেতন অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্জয় সাহা জানান, রাতে সুভাষ বাসায় না ফেরায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। একই রাতে বিষয়টি ওয়ারী থানাকেও জানানো হয়েছিল।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আহত ব্যক্তির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি ওয়ারী থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।