রাজধানী

সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস শিগগিরই কাঁচপুরে স্থানান্তর: আবদুস সালাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস শিগগিরই কাঁচপুরে স্থানান্তর: আবদুস সালাম
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস কাঁচপুর থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার কাঁচপুর বাস টার্মিনালের চলমান অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে অস্থায়ী শেড নির্মাণের মাধ্যমে সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে। এর ফলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের পর সেখান থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য ডিএসসিসির উদ্যোগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত বিশেষ শাটল সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের পাশাপাশি সায়েদাবাদ ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষও সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, গুলিস্তান বাস টার্মিনালও ভবিষ্যতে বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ভেতরের দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলোকে নগরীর মূল অংশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যানজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সামগ্রিক কাজের বর্তমান গড় অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ প্রায় ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন এই টার্মিনালে একসঙ্গে প্রায় ৪০৫টি বাস ধারণের সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের জন্য পার্কিং সুবিধা এবং ২২টি বাস বে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাস পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকবে পাঁচটি ওয়াশিং বে। ব্যক্তিগত ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে টার্মিনালের অবকাঠামো পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার, পুরুষ যাত্রীদের জন্য ১০টি এবং নারী যাত্রীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থান রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ডিএসসিসি প্রশাসক প্রকল্পের কাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।

কাঁচপুর বাস টার্মিনাল চালু হলে ঢাকার ভেতরে দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ ও চলাচল কমবে। একই সঙ্গে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কিছুটা কমানোর ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।