ক্যারিয়ার
প্রাথমিকে ১০ হাজার ২১৯ পদে শিক্ষক নিয়োগ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগের ঘোষণা আসছে। এবার মোট ১০ হাজার ২১৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। প্রাথমিক শিক্ষায় এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিজ্ঞপ্তি দ্বিতীয় ধাপে প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১০ হাজার ২১৯ শূন্য পদের বিপরীতে আজ কিংবা আগামীকাল দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।”
বিধিমালা ও নতুন কাঠামো-
এর আগে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে। পরে ৩১ আগস্ট আট সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান ডিপিই’র মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)।
তবে প্রাথমিকভাবে বিধিমালায় কিছু ত্রুটি থাকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে সংশোধন শেষে ২ নভেম্বর নতুন বিধিমালা প্রকাশ করা হয়।
নতুন বিধিমালায় “অন্যান্য বিষয়ে” শব্দের পরিবর্তে “বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে অন্যূন” শব্দগুচ্ছ যোগ করা হয়েছে। ফলে বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রিধারীরাও এখন সরাসরি নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন।
প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নিয়মাবলি-
সংশোধিত বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পদোন্নতির জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পন্ন করা আবশ্যক।
অন্যদিকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক—উভয় পদের প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়। উভয় পদের প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিপিই’র তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা জারির পর থেকেই নভেম্বর মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছিল।