শিশু - কিশোর

জেনে নিন বাচ্চার অতিরিক্ত কার্টুন দেখার ক্ষতিকর দিক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

জেনে নিন বাচ্চার অতিরিক্ত কার্টুন দেখার ক্ষতিকর দিক
ছবি: সংগৃহীত

কার্টুন শিশুদের কাছে আনন্দের বিষয়। অনেক সময় এগুলো শিক্ষণীয়ও বটে। তবে যখন শিশু অতিরিক্ত সময় ধরে কার্টুন দেখে, তখন মজার এই বিষয়টিই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু কী ধরনের কার্টুন দেখছে, কতক্ষণ ধরে দেখছে এবং বাবা-মা কতটা সঙ্গ দিচ্ছেন এসবের ওপর নির্ভর করছে কার্টুনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব। 

কার্টুনের উপকারিতা

কার্টুন দেখার মাধ্যমে শিশুরা অনেক বিষয় সহজেই শিখতে পারে। যেমন ভাষা, রং বা কোনো সমস্যার সমাধান সম্পর্কে কার্টুন তাদের ইতিবাচক ধারণা দেয়। কার্টুনের মাধ্যমে অল্প বয়সে গল্প শোনার প্রতি তাদের আকর্ষণ তৈরি করে। 

তাছাড়া কার্টুনের নৈতিক গল্পের মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক দিক শেখানো সম্ভব হয়।

cartoon 4.jpg
ছবি: সংগৃহীত

কখন সমস্যা হবে?

বিভিন্ন কার্টুনের গল্পের গতিপথ অনেক রকমের হতে পারে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত গতিসম্পন্ন কার্টুন একটানা ৯ মিনিটের বেশি দেখলে শিশুদের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। কখনো কখনো তা তাদের সমস্যার সমাধানে বা সিদ্ধান্ত নিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে যদি স্ক্রিন টাইম বেশি হয়, তাহলে অনেকেই কথা বলা, স্মৃতি সংরক্ষণ বা সামাজিক আদান-প্রদানের বিভিন্ন রীতি দেরিতে আয়ত্ত করে।

অনেক সময় অতিরিক্ত কার্টুন দেখার ফলে শিশুরা পছন্দের চরিত্রদের অনুকরণ করতে শুরু করে। তার ফলে তাদের ব্যবহার বা কথা বলার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কখনো কখনো কাল্পনিক এবং বাস্তব জগতের মধ্যে পার্থক্য করতেও তাদের সমস্যা হতে পারে।

কার্টুন দেখার মাধ্যমে ছোটদের দৈনিক স্ক্রিন টাইমও বাড়তে থাকে। তার ফলে অনেক সময়ে তাদের মানসিক জগতে পরিবর্তন ঘটতে পারে। ছোটদের মনে উদ্বেগ বাড়তে পারে। আবার অনেকের মধ্যে লাজুক স্বভাব বাড়তে পারে। সারাক্ষণ কার্টুনই তাদের মুখে তখন হাসি ফোটায়। ফলে খেলাধুলা বা অন্যান্য সামাজিক কাজকর্মে তাদের আগ্রহ কমতে পারে।

cartoon5.jpg
ছবি: সংগৃহীত

সমতা এবং সুস্থতা

কার্টুন অনেক সময়ে হিংসাত্মক হতে পারে। তাই শিশুদের জন্য বিষয় বড়দেরই নির্বাচন করে দেওয়া উচিত। ধীর গতির শিক্ষামূলক কার্টুনই তাদের দেখার পরামর্শ দেওয়া উচিত।

যে সমস্ত শিশু এখনো স্কুলে প্রবেশ করেনি, তাদের ক্ষেত্রে দিনে এক ঘণ্টার বেশি কার্টুন দেখতে দেওয়া উচিত নয়।

কার্টুনের পাশাপাশি শিশুদের গল্প করা বা বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলাধুলা করার পরামর্শ দেওয়া উচিত।

কাল্পনিক এবং বাস্তব জগৎ সম্পর্কে শিশুদের স্পষ্ট ধারণা তৈরির জন্য তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা উচিত। ছোটদের শান্ত রাখতে সব সময় কার্টুনকে ব্যবহার করা উচিত নয়।