অপরাধ

বিলাসী জীবনযাপন ও অনলাইন পর্ন সাম্রাজ্যের সব তথ্য জানাল গ্রেপ্তার দম্পতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৫ পিএম

বিলাসী জীবনযাপন ও অনলাইন পর্ন সাম্রাজ্যের সব তথ্য জানাল গ্রেপ্তার দম্পতি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থেকে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে বান্দরবান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত এই যুগল অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিআইডির সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।

তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সিআইডি। পরে রোববার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে বান্দরবান থেকে আলোচিত এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, ক্যামেরা, ট্রাইপডসহ বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, গত বছরের মে মাসে তারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পর্ন ভিডিও আপলোড করেন। এরপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ১১২টি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ বারের বেশি।

এই সময়ের মধ্যেই তারা বিশ্বব্যাপী পর্ন তারকাদের পারফর্ম্যান্স র‌্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম অবস্থানে উঠে আসেন। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তারা বিশ্বের শীর্ষ ১০ পর্ন তারকার মধ্যে রয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, তারা একাধিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে ভিডিও আপলোড করতেন। একইসঙ্গে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কনটেন্টের প্রচারণাও চালাতেন।

এমনকি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নতুন সদস্য আনলে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিতেন। শুধু নিজেরাই নয়, অন্যদেরও এই পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, এই দম্পতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও শেষ করেননি এবং দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে তাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ছবি— বিদেশি রিসোর্টে ঘুরে বেড়ানো, দামি পোশাক, গ্যাজেটসহ নানা কিছু।

এই চিত্রে অনেকেই প্রভাবিত হয়ে পড়তে পারে, যা সামাজিক ও নৈতিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন সিআইডির এই কর্মকর্তা।

তারা কীভাবে কত অর্থ আয় করেছেন, সেই টাকা কোন মাধ্যমে দেশে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইভাবে, তারা যাদের এই চক্রে যুক্ত করেছেন, তাদের কত টাকা দেওয়া হতো, কীভাবে প্রলুব্ধ করতেন, তাও তদন্তাধীন রয়েছে।

এছাড়া, প্রকাশিত ভিডিওগুলো যাতে বাংলাদেশের দর্শকরা না দেখতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা।