অপরাধ
স্বামীকে নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, কারাগারে স্ত্রী
স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগে করা মামলায় তানিয়া খাতুন নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তানিয়া খাতুন। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বালিয়াকান্দি আমলি আদালতের বিচারক আরিফ হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খলকুলা (সাকুটিয়া) গ্রামের মো. মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সাখাওয়াত ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা না দিলে সংসার করবেন না জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানিয়া।
মামলার নথি অনুযায়ী, পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার একাধিক চেষ্টা করা হয়। তবে যৌতুকের টাকা ছাড়া তানিয়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান। আসামি ও বাদীপক্ষের মধ্যে একাধিকবার আইনজীবীদের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও আসামি তাতে সাড়া দেননি। এমনকি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবীর দাবি, তানিয়া এর আগে বাদীপক্ষের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন এবং পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আদালতে এসব বিষয় তুলে ধরার পর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় তার স্ত্রী তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন তিনি।