অপরাধ

হত্যা মামলা প্রত্যাহারে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের হুমকির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

হত্যা মামলা প্রত্যাহারে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের হুমকির অভিযোগ
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হত্যা মামলা তুলে নিতে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও মামলার সাক্ষীদের পুলিশের উপস্থিতিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহীদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী আমেনা এ অভিযোগ করেন। এ সময় তার চাচা-শ্বশুর আবু বক্কর খান, ভাসুর ইউনুচ খান, বড় ছেলে পারভেজ ও ছোট ছেলে আলী হোসেনসহ তার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আমেনা বলেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বহিষ্কৃত নেতা মো. জহিরুল ইসলাম জহির এবং তার সহযোগীরা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ফেসবুকে গরু চুরি সংক্রান্ত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার স্বামী মো. ইদ্রিস খানকে তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে ২ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি ইন্তেকাল করেন। এ ঘটনায় ৩ মার্চ ইদ্রিস খানের চাচা আবু বক্কর কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গত রোববার (৮ মার্চ) পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্তের জন্য ইদ্রিস খানের বাড়িতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সামনেই আসামিপক্ষের লোকজন আমেনা ও মামলার সাক্ষীদের দেখে নেওয়ার বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইদ্রিস খানের বড় ছেলে পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, গত ৩ তারিখ মামলা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বর্তমানে আমাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরাও জীবননাশের আশঙ্কায় রয়েছি। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম জহিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হব।