অপরাধ

কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর, নবজাতকের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর, নবজাতকের মৃত্যু
ছবি: ঢাকা প্রকাশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া (২৫) নামের এক নারীকে মারধর ও পেটে লাথি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত তানিয়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের বেতমোর এলাকার বাসিন্দা দুলাল হাওলাদারের মেয়ে এবং হাবিব আকনের স্ত্রী।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, তানিয়াকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ি সাইড দেওয়া নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর স্বামী হাবিব আকনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সোহাগ (৩০), আল-মামুন (২৬) ও শাওন (৪০) নামের তিন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন হাবিবকে মারধর করেন। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তানিয়াকেও মারধর ও পেটে লাথি দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর তানিয়া ও তাঁর স্বামীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং অন্তত দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তানিয়াকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি ছেলে নবজাতক প্রসব করেন। পরে নবজাতক সন্তান মৃত্যুবরণ করে।

তানিয়ার বাবা অভিযোগ করে বলেন, সোহাগ ও মামুন তাঁর মেয়ে ও জামাইকে হামলা করে আহত করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।

তানিয়ার স্বামী হাবিব আকন বলেন, তাঁরা তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেছেন এবং চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার পর তানিয়া সন্তান প্রসব করেন। নবজাতকটির শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল এবং কিছু সময় অক্সিজেন দেওয়া হয়। পরে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। তবে চিকিৎসা দেওয়ার পর তানিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন।

চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকির ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে নিন্দা জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।