অর্থনীতি
অবশেষে বাংলাদেশে আসছে পেপাল!
দীর্ঘ ১০ বছরের প্রতিক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে গ্লোবাল অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিস পেপাল (PayPal)। দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে পেপালের আনুষ্ঠানিক আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।
গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ব্যাংকের গভর্নর আহ্সান এইচ মনসুর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও চ্যানেল আই আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বলেন, এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
গভর্নর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপাল বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী। পেপাল চালু হলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন এবং তাদের পেমেন্টও দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি জানান, ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংকের এলসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছোট চালান পাঠাতে পারেন না। তবে এই নতুন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে সহজে পণ্য পাঠাতে পারবেন।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে পেপাল ব্যবহৃত হচ্ছে।
মূলত পেপাল হলো একটি আমেরিকান বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী অনলাইন অর্থ স্থানান্তর এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্রুত, নিরাপদ ও সহজে পেমেন্ট গ্রহণের জন্য এটি ফ্রিল্যান্সিং এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।
বাংলাদেশে পেপাল চালু হলে ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স খাতের জন্য নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে:
*দ্রুত ও সহজ পেমেন্ট: আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্রুত এবং সহজে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা যাবে। বর্তমানে প্রচলিত অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় এটি গ্রাহকদের কাছে বেশি পরিচিত ও বিশ্বস্ত।
*ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা: ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস এবং সরাসরি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন, যা তাদের কাজের সুযোগ ও আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
*বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: দেশে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসবে, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
*ই-কমার্স ও স্টার্টআপ: দেশীয় স্টার্টআপ, ই-কমার্স এবং আইটি সেবা খাতের আন্তর্জাতিক লেনদেন অনেক সহজ হবে।
*নিরাপত্তা: পেপাল গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা, পারচেজ প্রটেকশন (Purchase Protection) এবং ট্রানজেকশনের সুরক্ষা প্রদান করে।
পেপাল চালুর বিষয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি এলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৭ সালে একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হলেও, পরবর্তীতে তা স্থগিত হয়। বর্তমানে পেপালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'জুম' (Xoom) সীমিত আকারে সেবা দিলেও, ফ্রিল্যান্সারদের মূল চাহিদা পূরণে পেপালের সম্পূর্ণ পরিষেবা অপরিহার্য।
দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পেপালের আনুষ্ঠানিক আগমন এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।