শিক্ষা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
একইসঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ হাজার কম।
গত বছর পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থী। ফলে এবার পাসের হার ১৪.৫৮ শতাংশ কমেছে এবং জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ২৩.৬ শতাংশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবীর।
ফলাফলে জানা যায়, এবার মোট ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন।
সারা দেশের মোট ৩ হাজার ৭১৫টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাটি শুরু হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই এ বছরের ফলাফল প্রকাশ করা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন নীতিমালা’র ভিত্তিতে। তবে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর এই পতনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষানীতিবিদরা।
অনেকের মতে, ফলাফলের এই পতন করোনা-পরবর্তী শিক্ষার ঘাটতি, দুর্বল প্রস্তুতি ও পাঠদান ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি বিশ্লেষণ ও নীতিগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।