শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন! ৮ পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ১০:৪৭ পিএম

শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন! ৮ পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ৮ জন পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। খাতার গোপন অংশ—বিশেষ করে এমসিকি'র বৃত্ত পূরণের কাজ শিক্ষার্থীদের দিয়েই করানো হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি থেকে উঠে আসে এমন বিস্ফোরক তথ্য।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

রোববার (২০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে বোর্ড জানায়, অভিযুক্তদের প্রত্যেককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরীক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে তারা খাতার সবচেয়ে গোপনীয় অংশে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন, যা নিয়মভঙ্গের পাশাপাশি আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অনিয়মে শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ। অভিযুক্তদের আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়া পরীক্ষকরা হলেন- নরসিংদীর বারৈচা কলেজের মধুছন্দা লিপি (বাংলা ১ম পত্র), সাভারের হাজী ইউনুছ আলী কলেজের মো. জাকির হোসাইন (বাংলা ২য় পত্র), গাজীপুরের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার আনসার ভিডিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. রাকিবুল হাসান (বাংলা ২য় পত্র), ডেমরার রোকেয়া আহসান কলেজের মুরছানা আক্তার (ইংরেজি ২য় পত্র), নবাবগঞ্জের মুন্সীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের আবু বকর সিদ্দিক (গণিত), রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমীরময় মন্ডল (গণিত), যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. সাখাওয়াত হোসাইন আকন (ইসলাম শিক্ষা) এবং সেন্ট যোসেফস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মহসীন আলামীন (উচ্চতর গণিত)।

বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয়। এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বোর্ডের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, অনিয়মের ঘটনাগুলোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।