শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের র‍্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের র‍্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্কুল ও কলেজগুলোর মানোন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে একটি র‍্যাংকিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফলের ভিত্তিতে সূচক নির্ধারণ করে এই র‍্যাংকিং করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই গড়ে উঠেছিল। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন চালু করেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিট ব্যবস্থার সূচনা করেন।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী সরকারি দপ্তরগুলোকে মিতব্যয়ী ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য গাড়ি শেয়ারিং, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং এয়ার কন্ডিশনার নির্ধারিত তাপমাত্রায় ব্যবহারের নির্দেশনার কথাও বলেন।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং তাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে এই অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ লক্ষ্যে এর সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, এলজিইডি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। একই প্রশাসনিক ছাতার অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়লে কাজের গতি আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্মাণ কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় নতুন নির্মিত ভবন কয়েক বছরের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই ঠিকাদারদের দক্ষতা, জনবল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা যাচাই করে দায়িত্ব দিতে হবে।

পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও নকশা ব্যবহার করে টেকসই, সুন্দর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রশাসনের অভ্যন্তরে সমন্বয়, খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

শিক্ষকদের প্রশাসনিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বেতন-ভাতা, পেনশন, ছুটি, বদলি, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

তিনি বদলিতে তদবির বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে অটোমেশন ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ওপরও জোর দেন।

সভায় কর্মকর্তারা অনলাইন সিস্টেম ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনার কিছু সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরলে মন্ত্রী দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।