শিক্ষা

শ্রেণিকক্ষ-শিক্ষার্থীহীন কলেজে ২৪ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, অধ্যক্ষের সনদও জাল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

শ্রেণিকক্ষ-শিক্ষার্থীহীন কলেজে ২৪ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, অধ্যক্ষের সনদও জাল
এই উচ্চ বিদ্যালয়ে চলে ঢাকা সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজের কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ঠিকানায় নিবন্ধন, কিন্তু বাস্তবে নেই কোনো ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ বা শিক্ষার্থী—এমনই এক রহস্যঘেরা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে অনুসন্ধানে। ঢাকা সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজ নামে এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন ২৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক, যারা নিয়মিত বেতনও পাচ্ছেন।

সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর ৪৭১ জন শিক্ষকের ভুয়া সনদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই তালিকায় উঠে আসে কলেজটির অধ্যক্ষ মাহবুবুল ভুইয়া–এর নাম। তবে মতিঝিলের শহীদবাগে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কলেজটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে অনুসন্ধান গিয়ে পৌঁছায় শান্তিবাগ এলাকার একটি স্কুলে। জানা যায়, একসময় সেখানে ভাড়া নিয়ে কলেজটির কার্যক্রম চলত। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ না করায় কয়েক মাস আগে সেখান থেকেও সরে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর সূত্র ধরে খোঁজ মেলে ঢাকার অদূরে নাসিরাবাদ গ্রামের একটি স্কুল ভবনে। সেখানেই চলছে কলেজের কার্যক্রম বলে দাবি করা হয়। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আলাদা কোনো কলেজ ভবন বা শ্রেণিকক্ষ নেই—স্কুলের ভেতরেই সীমিতভাবে নামমাত্র কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

একপর্যায়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল ভুইয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথমে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। এমনকি তার ব্যবহৃত সনদও ভুয়া বলে জানান তিনি। তবুও প্রতিষ্ঠানটির ২৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, কলেজের এক স্টাফ আনিসুর রহমান শিক্ষার্থী থাকার কথা বললেও সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা উপস্থিতি দেখাতে পারেননি। অনুসন্ধানের সময় কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে বাস্তব অবকাঠামো বা কার্যক্রম নেই, সেখানে কীভাবে সরকারি অর্থে বেতনভাতা চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এম এম সহিদুল ইসলাম, পরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে তদন্তের আওতায় আনা হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিব্রতকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষকদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষা খাতের জন্য বড় ধরনের সংকেত, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

একটি প্রতিষ্ঠানের এমন চিত্র সামনে আসায় বাকি ভুয়া সনদধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: সময় টিভি