ফিচার
বিপ্লবী হাদির জানাজায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জনতার শৃঙ্খলার নীরব শিক্ষা
শনিবার ওসমান হাদির জানাজার সময় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে দৃশ্যটি চোখে পড়েছে, তা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মুহূর্ত নয়—বরং এটি সমাজে শৃঙ্খলা ও সচেতনতার এক গভীর বার্তা বহন করে। বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে উপস্থিত হলেও তাঁরা স্বেচ্ছায় একটি নির্দিষ্ট অংশ ফাঁকা রেখে দাঁড়িয়েছিলেন। কারণ, ওই জায়গাটিতে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে কিছু ফুলের চারা রোপণ করা ছিল।
এই ফাঁকা জায়গা রাখা কোনো প্রশাসনিক নির্দেশ, মাইকিং কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির ফল নয়। ছিল না কোনো ব্যারিকেড বা নিষেধাজ্ঞার চিহ্ন। তবুও মানুষ নিজের বিবেক ও দায়িত্ববোধ থেকেই চারাগুলোর প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মানুষ চাইলে অগোছালো ভিড়ের মাঝেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে।
এই ঘটনা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। শৃঙ্খলা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ভয়, বাধা বা শাস্তির মাধ্যমে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আনা গেলেও তা মানুষের মননে গেঁথে যায় না। বরং শৃঙ্খলা তখনই টেকসই হয়, যখন তা মানুষের ভেতর থেকে আসে—যখন মানুষ নিজেই বোঝে কোনটা করা উচিত আর কোনটা নয়।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সেই মুহূর্তে উপস্থিত জনতা দেখিয়ে দিয়েছেন, সচেতন নাগরিকত্ব কেমন হওয়া উচিত। ফুলের চারাগুলো রক্ষা করার মধ্য দিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন। এই নীরব আচরণই যেন বড় কোনো বক্তৃতার চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
অতএব, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-শৃঙ্খলা আইন বা নির্দেশের কাগজে নয়, মানুষের মনন ও মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হয়। যখন সেই বোধ জাগ্রত থাকে, তখন কোনো চাপ ছাড়াই সমাজ নিজেই হয়ে ওঠে সুসংহত, সুন্দর ও মানবিক।