রাজনীতি

আগ্রাসী উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্ভব নয়: রাশেদ প্রধান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

আগ্রাসী উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্ভব নয়: রাশেদ প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশেদ প্রধান বলেন, ভারত একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলে, অন্যদিকে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্বের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ভারত মুখে বলে বন্ধুত্বের কথা, আর সীমান্তে চালায় হত্যাকাণ্ড। ভারতের তথাকথিত বন্ধুত্ব আর সীমান্ত হত্যা একসঙ্গে চলতে পারে না।”

রাশেদ প্রধানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে পানি বণ্টন, সীমান্ত পরিস্থিতি, পুশ-ইন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরে বাংলাদেশ ২৩ বার বঞ্চনার শিকার হয়েছে। ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আজও মেলেনি। নানাবিধ কৌশলে অবৈধ পুশ-ইন প্রচেষ্টাও চলমান রয়েছে।”

এ সময় রাশেদ প্রধান পিলখানা ও শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব ঘটনার পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে হস্তক্ষেপ করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ প্রধান আরও বলেন, “পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার পেছনে রয়েছে ভারতের প্রত্যক্ষ ইন্ধন। দেশটি প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে আসছে।”

এ ছাড়া জুলাইয়ের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও ভারতের বিরুদ্ধে তোলেন জাগপা মুখপাত্র। এসব কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে প্রচলিত অর্থে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।

রাশেদ প্রধানের ভাষায়, “জুলাইয়ের গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয়দাতাও ভারত। তাই এই আগ্রাসী উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বন্ধুত্ব সম্ভব নয়।”

বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাশেদ প্রধান বলেন, “আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চাই না। সীমান্ত থেকে গুলি এলে পাল্টা জবাব দিতে হবে। ভারত যদি বন্ধুত্ব চায়, তবে বন্ধুত্বের যথাযথ প্রতিদান দিতে হবে; সম্মান চাইলে সম্মান দিতে শিখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অবজ্ঞা করে, তাহলে বাংলাদেশকেও তার যথাযথ জবাব দিতে হবে। তার ভাষায়, “যেহেতু তারা প্রতিবেশীর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, অতএব পাল্টা জবাব তাদের প্রাপ্য।”

বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাগপা মুখপাত্র বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নতজানু নীতি জনগণ মেনে নেবে না। সরকারের কথাবার্তা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে যেন কোনো বৈপরীত্য না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

রাশেদ প্রধান বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকারকে মাথা উঁচু করে এর জবাব দিতে হবে। মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে ভারতের সামনে খুনি হাসিনার মতো মাথানত করলে দেশের জনগণ রাজপথেই তার জবাব দেবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলাদেশি যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই বিবৃতিতে রাশেদ প্রধান সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান।