সারাবিশ্ব

মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি চীনের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি চীনের
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিং এই ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও চেতনাকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের উচিত প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তাদের মুক্তি দেওয়া। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের যেকোনো প্রচেষ্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথেই অগ্রসর হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, বলপ্রয়োগ বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বেইজিং।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ক্ষমতার পাশাপাশি আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা এই ঘটনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের সেই অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এর প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই নয়, লাতিন আমেরিকার সামগ্রিক ভূরাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।