সারাবিশ্ব
অরুণাচলের ২৭ স্থানের ভারতীয় নামকরণ, কড়া প্রতিক্রিয়া চীনের
অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি এলাকার নতুন করে ভারতীয় নামকরণ এবং সেগুলো ভারতীয় মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ সীমান্ত ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত হতে থাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও তা সহায়ক নয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানকে চীন প্রায়ই নিজেদের মতো করে নামকরণ করে থাকে। এরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত গত শুক্রবার ওই অঞ্চলের ভূমি, পারাপার ও বিভিন্ন স্থাপনা-সংক্রান্ত ২৭টি স্থানের নতুন নাম নির্ধারণ করে। পরে এসব নাম ভারতীয় মানচিত্রেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভারতের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কিয়ান ফেঙ বলেন, সীমান্ত ইস্যুকে বড় ধরনের বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার নাম পরিবর্তন করে আসছে। এ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে মোট ১১২টি নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিলে নতুন করে নামের তালিকা প্রকাশ করে চীন। এসব নামের মধ্যে গ্রাম, পাহাড়ি পথ, নদী ও বিভিন্ন পর্বতচূড়ার নাম রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানগুলোর ভৌগোলিক স্থানাঙ্কও প্রকাশ করা হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন গত ১৪ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চীন-ভারত সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। উভয় দেশকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ওশেন স্টাডিজের অধ্যাপক গুয়ো শুয়েটাঙও ভারতের সাম্প্রতিক নামকরণের সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ভারতের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তন একটি একতরফা প্রশাসনিক পদক্ষেপ। তবে এ ধরনের নামকরণ ওই অঞ্চলের আইনগত বা বৈধ অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।
চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে এবং অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। সর্বশেষ সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন আবারও ভারতের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, চীন ভারতের কথিত ও অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ‘অরুণাচল প্রদেশের’ অস্তিত্ব স্বীকার করে না।
গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘জাংনান চীনের অঞ্চল।’ তাঁর দাবি, জাংনানের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নাম পরিবর্তনের জন্য ভারতের নেওয়া উদ্যোগ অবৈধ, বাতিল ও অকার্যকর। এ ধরনের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ওই অঞ্চল চীনের অংশ-এ অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভারতের অবস্থানও চীনের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারত বরাবরই বলে আসছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীন ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করলেও তাতে অরুণাচলের সার্বভৌমত্ব বা আইনগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না-নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও অতীতে এমন অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
ফলে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নামকরণকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। যদিও উভয় দেশই সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল ও উন্নত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সীমান্ত ও ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে।