সারাবিশ্ব

উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের তথ্য প্রকাশ, ইউক্রেনের কাছে ব্যাখ্যা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের তথ্য প্রকাশ, ইউক্রেনের কাছে ব্যাখ্যা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের হাতে আটক দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করায় ইউক্রেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিষয়টি নিয়ে কিয়েভের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং ক্ষমা চেয়েছে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে সমঝোতা থাকার পরও ইউক্রেন একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিয়ং গি-হং রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেনের এমন পদক্ষেপে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘গভীরভাবে দুঃখিত’। তাঁর দাবি, বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে ইউক্রেনকে একাধিকবার ওই দুই যুদ্ধবন্দীর হস্তান্তরসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না।

কী ঘটেছিল দুই উত্তর কোরীয় সেনার সঙ্গে?

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে লড়াইয়ের সময় তাদের আটক করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের একটি বড় অংশে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরবর্তী সময়ে রুশ বাহিনী ওই এলাকার বেশির ভাগ অংশ পুনর্দখল করে।

এই দুই সেনাই ছিলেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জীবিত আটক হওয়া প্রথম উত্তর কোরীয় সেনা। উত্তর কোরিয়া সরাসরি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়া শুরু করার পর তাদের আটক করা হয়।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে কিয়েভ।

জেলেনস্কি বলেন, ওই দুই সেনাকে জীবিত আটক করা সহজ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজন বন্দী হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোরও সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তাঁর দেশের সেনাদের রাশিয়ার স্বার্থে ব্যবহার করছেন এবং এর বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়ার হাতে আটক ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে তিনি ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে কিম জং-উনের কাছে ফেরত দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ওই দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে সেনা দুজনকে গুরুতর শাস্তি বা নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, আটক দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

কেন ইউক্রেনের ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়া?

দক্ষিণ কোরিয়া আগে ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনার দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি। সিউলের পক্ষ থেকে এর কারণ হিসেবে তাদের নিরাপত্তা এবং উত্তর কোরিয়ায় থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বিস্মিত হয়। সিউলের মতে, যুদ্ধবন্দীদের পরিচয় ও তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানান্তরের তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশের আগে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবাসন একটি ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল এজেন্ডা’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা না করে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

লি জে-মিয়ং আরও বলেন, কেন ইউক্রেন বিষয়টি প্রকাশ করেছে, তা তিনি জানেন না। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়ে থাকলে সেটি লঙ্ঘন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত পূর্বপরামর্শ ছাড়াই জেলেনস্কি দুই সেনাকে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে দাবি করায় সিউল আরও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের মতে, এই ঘটনায় দুই দেশের পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে নিয়েও বিরোধীদের প্রশ্ন

যুদ্ধবন্দীদের তথ্য প্রকাশ নিয়ে ইউক্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির নেতা আন চোল-সু প্রশ্ন তুলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণকে কেন নিজেদের সরকারের কাছ থেকে নয়, বরং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দেশে দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীর উপস্থিতির খবর জানতে হলো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের কাছে জানতে চান, সরকার কেন বিষয়টি এতদিন গোপন রেখেছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তর কোরিয়া-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে কি না।

আন চোল-সু আরও জানতে চান, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার শেষ পর্যন্ত ওই দুই যুদ্ধবন্দীকে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা করেছিল কি না।

রাশিয়ার হয়ে কত উত্তর কোরীয় সেনা যুদ্ধ করছে?

ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। তাদের বড় একটি অংশকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল বলে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং ওই অঞ্চলের ওপর রুশ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উত্তর কোরীয় সেনাদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

উত্তর কোরিয়া শুধু সেনা পাঠিয়েই রাশিয়াকে সহায়তা করছে না-মস্কোকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে। ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়নে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে রাশিয়ার কামান ও মর্টারের গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান এবং একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পর দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পিয়ংইয়ং-মস্কো সামরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পর কী হবে দুই সেনার?

দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ, নিরাপত্তা যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপর তাদের সুরক্ষা, অবস্থান এবং পুনর্বাসনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও অতীতের নজির অনুসরণ করে দুই সেনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত আইনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধান বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি কাঠামো অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া থেকে আসা কোনো ব্যক্তি দক্ষিণ কোরিয়ায় সুরক্ষা পাওয়ার আবেদন করলে তাকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অস্থায়ী সুরক্ষামূলক হেফাজতে রেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা যেতে পারে।

দুই সেনার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা

আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-ওন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রিয়ায় ওই দুই সেনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তাঁর দাবি, তারা উত্তর কোরিয়ার বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

ইউ ইয়ং-ওনের মতে, ওই দুই সেনার কাছ থেকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রশিক্ষণ, যুদ্ধকৌশল, সামরিক সক্ষমতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের সরাসরি অংশগ্রহণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে উত্তর কোরীয় সেনাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাদের কী অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং কীভাবে তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে-এসব বিষয়ে যুদ্ধবন্দী দুজনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মানবিক ও কূটনৈতিক-দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীর দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানান্তরের ঘটনা শুধু একটি মানবিক সিদ্ধান্ত বা দুই দেশের কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা।

১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া কার্যত পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান করছে। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ থামলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে দুই দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় বিবেচনা করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং দুই দেশ নিয়মিত সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। উত্তর কোরিয়া এসব সামরিক মহড়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের হাতে আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানান্তর এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক এবং রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, যুদ্ধবন্দী দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের ভূমিকা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করতে পারে।