সারাবিশ্ব

কি আছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা দুই উত্তর কোরিয়ার সেনার ভাগ্যে?


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

কি আছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা দুই উত্তর কোরিয়ার সেনার ভাগ্যে?
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে বন্দী হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন, জিজ্ঞাসাবাদ, নাগরিকত্ব এবং পুনর্বাসন-সব মিলিয়ে এই দুই সেনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, কতদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন কি না-এসব বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথম ধাপেই দুই সেনার পরিচয়, উত্তর কোরিয়া ছাড়ার পরিস্থিতি, সামরিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে। সিউলের একীকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও অতীতে অনুসরণ করা নজিরের আলোকে তাদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘উত্তর কোরীয় স্থানচ্যুত ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন সহায়তা আইন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (NIS)-সাধারণত উত্তর কোরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের পরিচয়, দক্ষিণে আসার কারণ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে। এই প্রাথমিক তদন্ত ও সুরক্ষামূলক হেফাজতের সময়সীমা সাধারণত ৯০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সময় আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

তবে এই দুই ব্যক্তি সাধারণ কোনো উত্তর কোরীয় নাগরিক নন। তারা উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। উত্তর কোরীয় সেনাদের রাশিয়ায় মোতায়েন, তাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল, কমান্ড কাঠামো এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা ইউ ইয়ং-ওন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে গিয়ে বন্দী দুই সেনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি উত্তর কোরিয়ার বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ফলে উত্তর কোরিয়ার বিশেষ সামরিক ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতার বাস্তব চিত্র বোঝার ক্ষেত্রেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘ সময় ধরে জনসম্মুখের বাইরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে তাদের সামরিক পরিচয় ও রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের মতো স্পর্শকাতর তথ্যের কারণে সাধারণ আশ্রয়প্রার্থীদের তুলনায় তাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হবে। কারণ ইউক্রেনের বন্দিশিবিরে দীর্ঘ সময় আলাদাভাবে আটক থাকার অভিজ্ঞতা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলেছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

যুদ্ধবন্দী হিসেবে তাদের হস্তান্তর কতটা বৈধ?

দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো-যুদ্ধবন্দী হিসেবে তাদের অন্য একটি দেশে স্থানান্তরের আইনি ভিত্তি কী ছিল?

তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুদ্ধবন্দীদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। তবে যুদ্ধ চলাকালীন কোনো যুদ্ধবন্দীকে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা যাবে না-এমন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা সেখানে নেই। ফলে ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই দুই সেনার স্থানান্তরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের একটি জটিল প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।

এখন পর্যন্ত সিউল ও কিয়েভ প্রকাশ্যে বিস্তারিতভাবে জানায়নি, ঠিক কোন আইনি কাঠামোর অধীনে তাদের এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ফলে তাদের যুদ্ধবন্দী মর্যাদা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কোনো ব্যক্তিকে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে কি না, যেখানে তার নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষক পিটার ওয়ার্ডের মতে, যুদ্ধবন্দীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সাধারণ নিয়ম হলেও, প্রত্যাবর্তনের ফলে তাদের জীবন, অধিকার বা নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়লে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ইচ্ছায় অন্য একটি দেশে যেতে চান এবং সেই দেশ তাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে তার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মানবিক ও আইনি যুক্তি তৈরি হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই দুই সেনাকে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে কি না-এ প্রশ্নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ‘নন-রিফলমেন্ট’ নীতি সরাসরি জড়িত। এই নীতির মূল কথা হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার নির্যাতন, নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।

দুই সেনা বন্দী হওয়ার পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের এই অবস্থানও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ তারা যদি স্বেচ্ছায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে চান এবং উত্তর কোরিয়ায় ফিরে গেলে শাস্তি বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রশ্ন তৈরি হয়।

এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে আত্মত্যাগ করা সেনাদের প্রশংসা করেছেন। এর ফলে বন্দী হওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের নিজস্ব বক্তব্য, প্রাপ্ত নিরাপত্তা তথ্য এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ কোরীয় আইন বিবেচনা করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধানেও রয়েছে বিশেষ জটিলতা

দুই সেনাকে গ্রহণের বিষয়টি শুধু আন্তর্জাতিক আইনের কারণে জটিল নয়; দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব সাংবিধানিক অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক আইনে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া দুটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধানে কোরীয় উপদ্বীপের সমগ্র ভূখণ্ডকে তাদের সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আইনি কাঠামো বিদ্যমান।

কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত লি শিন-হোয়া মনে করেন, এই দুই সেনাকে স্থানান্তরের ঘটনায় কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ একদিকে তারা উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্য, অন্যদিকে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

শেষ পর্যন্ত তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা তদন্ত, তাদের নিজস্ব ইচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর। সাধারণত উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আসা ব্যক্তিরা যাচাই-বাছাই শেষে পুনর্বাসন সহায়তা ও সমাজে একীভূত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারেন তারা

এই দুই সেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা। তারা যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে থেকে যান, তাহলে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রশিক্ষণ, রাশিয়ায় তাদের মোতায়েনের পদ্ধতি, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল এবং রুশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সম্পর্কে সিউলকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন।

বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরীয় সেনাদের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ফলে এই দুই সেনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতার বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণে নতুন তথ্য দিতে পারে।

তবে একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তারা যে তথ্য দেবেন, তার একটি অংশ জাতীয় নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে না-ও আসতে পারে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নীতিগত অবস্থান। দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলেও ইউক্রেনকে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পরিবর্তে মাইন অপসারণ সরঞ্জামসহ অ-মারাত্মক সামরিক সহায়তা ও মানবিক সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তার সরকার জানিয়েছে, এই সহায়তায় প্রাণঘাতী অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত নেই। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের বিষয়টি তাদের নিজস্ব ইচ্ছা, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক নীতির ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানো এই দুই উত্তর কোরীয় সেনার সামনে এখন একটি দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অপেক্ষা করছে। তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন কি না, তাদের কতদিন নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হবে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে-এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে দক্ষিণ কোরিয়ার তদন্ত ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপর। তবে তাদের হস্তান্তর উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্কের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।