সারাবিশ্ব
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮২, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে রোববার (৬ জুলাই) পর্যন্ত কমপক্ষে ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একদিকে কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চললেও, বাস্তবে গাজা উপত্যকা জুড়ে চলছে ভয়াবহ হামলা, যা দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।
শুধুমাত্র গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় মধ্যরাতের এক আক্রমণে অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বোমা হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন।
আহত ও বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন মাহমুদ আল-শেখ সালামা বলেন, “রাত ২টার দিকে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আমরা ছুটে যাই বাইরে, কিছুক্ষণ পর আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে দেখতে পাই, চারটি পরিবারের অনেক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে।”
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “যেখানে আমরা বাস করতাম, এখন সেখানে শুধুই ধ্বংসস্তূপ। কিছু মানুষ হয়তো এখনও জীবিত অবস্থায় নিচে আটকা পড়ে আছে।”
এই বর্বর হামলার সময় কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে গাজায় বাস্তবচিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা—সেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে লাশের সংখ্যা, ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি ও স্বপ্ন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে গাজা এখন এক মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।