সারাবিশ্ব

গাজায় অনাহার-অপুষ্টিতে ৯৪ শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে ১৮১ ফিলিস্তিনি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

গাজায় অনাহার-অপুষ্টিতে ৯৪ শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে ১৮১ ফিলিস্তিনি
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন আরও ৬ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে এক শিশু।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪ শিশুসহ মোট ১৮১ জন ফিলিস্তিনি অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন। খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

এরই মধ্যে সোমবার সকাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আল-আওদা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজার মধ্যাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি গুলিতে ৭ জন ত্রাণপ্রার্থী নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাফাহ শহরের আল-শাকুশ এলাকায় জিএইচএফ-এর আরেক ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে গোলাবর্ষণে এক নারীসহ আরও ২ জন নিহত হন এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ‘কৌশলগত বিরতি’ দেবে যাতে মানবিক সহায়তা ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে বাস্তবে এ ধরনের বিরতি কার্যকর হয়নি, বরং সহিংসতা থেমে নেই।

গাজায় অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা (UNRWA) ও অন্যান্য মানবিক সংগঠন ইসরায়েলের প্রতি স্থলপথে সহায়তা প্রবেশের বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েল সম্প্রতি জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, স্পেন, জার্মানি এবং ফ্রান্সকে বিমান থেকে গাজায় ত্রাণ ফেলতে অনুমতি দিলেও মানবিক সংস্থাগুলোর দাবি, “বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা একেবারেই অপর্যাপ্ত”। গাজার জনগণের বেঁচে থাকার জন্য অবিলম্বে স্থলপথে অবাধ ও নিরাপদ সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা অব্যাহত থাকে, তবে গাজায় শিশুদের মৃত্যুহার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পরিস্থিতি একটি মানবিক মহাসংকটে পরিণত হতে পারে।