সারাবিশ্ব
ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ভয়াবহ পরিস্থিতি বয়ে আনবে: এমএসএফ প্রধান
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হামলা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা গাজাবাসীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের (এমএসএফ) মহাসচিব ক্রিস্টোফার লকইয়ার।
সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার এমএসএফসহ ৩৭টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবিক সংস্থার কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ বিষয়ে জেনেভায় এমএসএফের সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লকইয়ার বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি সবচেয়ে সংকটময় সময়। মানুষের এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে যদি সহায়তা কার্যক্রম কমে বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গাজা ও পশ্চিম তীরের মানুষের অবস্থা আরও বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এমএসএফ গাজায় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটি স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রাখা ছাড়াও আহত ও অসুস্থদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, বর্তমানে তারা গাজার মোট হাসপাতাল শয্যার অন্তত ২০ শতাংশ পরিচালনা করছে এবং ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল রেখেছে।
লকইয়ারের তথ্যমতে, শুধু ২০২৫ সালেই এমএসএফ ৮ লাখের বেশি চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছে, এক লাখের বেশি ট্রমা রোগীর চিকিৎসা করেছে এবং ১০ হাজারের বেশি নবজাতকের প্রসবে সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি ৭০ কোটি লিটারের বেশি পানি সরবরাহ করেছে।
গত ডিসেম্বর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ না করায় এমএসএফসহ ৩৭টি সংস্থাকে গাজায় কাজ করতে দেওয়া হবে না। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও জাতিসংঘ।
ইসরায়েলের অভিযোগ, এমএসএফের দুই কর্মীর সঙ্গে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোগাযোগ ছিল। তবে অভিযোগটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে এমএসএফ।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ