সারাবিশ্ব

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন: এরদোয়ান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন: এরদোয়ান
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

সোমবার আঙ্কারায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই হামলা শুধু একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের পক্ষ থেকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

এরদোয়ান বলেন, “আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা চাই এই অঞ্চলে রক্তপাত বন্ধ হোক, মানুষের কান্না থেমে যাক এবং বহু বছর ধরে যে স্থায়ী শান্তির জন্য আমাদের অঞ্চল অপেক্ষা করছে, তা বাস্তবে রূপ নিক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত তুরস্ক সব পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত ও জোরদার করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল–এর কঠোর সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, শনিবারের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাই এই সংঘাতের সূচনা করেছে এবং এরই জবাবে তেহরান পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। তার ভাষায়, এই হামলা ছিল “অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য”।

সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে নিহত নিরীহ মানুষ ও শিশুদের দুর্ভোগের দৃশ্য তাকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ন্যাটো জোটভুক্ত মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ তুরস্ক–এর সঙ্গে ইরান–এর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে এই সংঘাত সরাসরি তুরস্কের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। তেলআবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় হাসপাতাল, স্কুলসহ বহু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স